এক্লাম্পসিয়া হচ্ছে গর্ভাবস্থায় গুরুত্বর এক জটিলতা, যা গর্ভবতী মা এবং ভ্রুণ বা পেটের সন্তান উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এই রোগটাকে গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে খারাপ রোগ বা অবস্থা বলেও অনেকে অভিহিত করে। প্রসবপূর্ব যত্নে সচেতন ও চিকিৎসার মান বৃদ্ধির পরেও এক্লাম্পসিয়া বিশ্বব্যাপী এখনও গর্ভবতী মা এবং গর্ভের সন্তানের অসুস্থতা ও মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে আছে।
এই রোগের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানা চিকিৎসক, গর্ভবতী মা এবং গর্ভবতী মায়ের পরিবারের সদস্যদের সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এক্লাম্পসিয়া কিঃ
প্রিক্ল্যাম্পসিয়া আক্রান্ত গর্ভবতী বা কোনো গর্ভবতী মহিলার খিঁচুনি হওয়াকে এক্লাম্পসিয়া বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রস্রাবের সাথে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন নির্গত হতে থাকে। এছাড়াও কিডনিসহ অন্যান্য কিছু অঙ্গের সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্থ করে থাকে এক্লাম্পসিয়া রোগটি। এই রোগে আক্রান্ত রোগী ও গর্ভে থাকা সন্তানের গুরুত্বর জটিলতা বা মৃত্যু রোধ করতে অবিলম্বে চিকিৎসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ।
কারণঃ
ঠিক কি কারণে এক্লেম্পসিয়া হয় তার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়নি। তবে সাধারণত প্লাসেন্টাল রক্তনালীতে অস্বাভাবিকতার কারণে রোগটি হয় বলে মনে করা হয়। এই অস্বাভাবিকতা সমূহ প্ল্যাসেন্টাল পারফিউশন, হাইপোক্সিয়া এবং মাতৃ সঞ্চালনে এন্টিএঞ্জিওজেনিক উপাদানকে সঞ্চালিত করতে পারে।
আর এই কারণগুলো এন্ডোথেলিয়াল কর্মহীনতায় রাখে। যা উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রোটিনুরিয়া বা প্রোটিন নির্গত হওয়ার (প্রিক্ল্যাম্পসিয়া) মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
ঝুঁকির কারণঃ
এক্লাম্পসিয়ার সঠিক কারণ নির্ণয় করা না গেলেও এর বেশ কিছু ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। যেগুলো এক্লাম্পসিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকে। চিহ্নিত এই সকল কারণগুলো হচ্ছে-
প্রিক্ল্যাম্পসিয়া/এক্লাম্পসিয়ার ইতিহাসঃ
যে সকল মহিলা পূর্বে প্রিক্ল্যাম্পসিয়া বা এক্লাম্পসিয়া অনুভব করেছে অর্থাৎ খিচুনি হয়েছে তাদের গর্ভাবস্থায় এই রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
প্রথম গর্ভাবস্থাঃ
প্রথমবার গর্ভবতী হওয়া মায়েদের এক্লাম্পসিয়ায় বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
বয়সঃ
২০ বছরের কম বয়সী এবং ৩৫ বছরের অধিক এমন নারীদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপঃ
আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন নারীদের প্রিক্ল্যাম্পসিয়া এবং এক্লাম্পসিয়া উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একাধিক গর্ভাবস্থাঃ
যমজ বা তার অধিক সন্তান গর্ভধারণ করেছে এমন নারীর এক্লাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
স্থুলতাঃ
আতিরিক্ত স্বাস্থ্যবান বা ঊর্ধ্বতন শরীরের ভর সূচক (BMI) এই রোগ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ।
ডায়াবেটিসঃ
টাইপ ১ এবং টাইপ ২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে।
এক্লাম্পসিয়া ও প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার পার্থক্যঃ
প্রিক্ল্যাম্পসিয়া এবং এক্লাম্পসিয়া একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং দুটি রোগই স্বতন্ত্র সত্তা। প্রিক্ল্যাম্পসিয়া রোগটি উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রোটিনুরিয়া অর্থাৎ প্রস্রাবের সাথে কতটা প্রোটিন নির্গত হচ্ছে তা দ্বারা নির্ণয় করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য কিছু অঙ্গ যেমন কিডনি, ফুসফুস ইত্যাদি প্রভাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে এক্লাম্পসিয়ায় প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার সমস্ত লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আর প্রিক্ল্যাম্পশিয়ার এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে খিঁচুনি হাওয়ার কারণে এই রোগটিকে প্রিক্ল্যাম্পসিয়া থেকে আলাদা করা যায়।
এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণঃ
প্রারম্ভিক লক্ষণঃ
এক্লাম্পসিয়া প্রায়ই প্রিক্ল্যাম্পসিয়া থেকে হয়ে থাকে। তাই সময়মতো সনাক্ত এবং সুচিকিৎসার জন্য প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হতে পারে-
* তীব্র মাথাব্যথাঃ
নারীর ক্রমাগত ও তীব্র মাথাব্যথা হওয়া এবং সাধারণ চিকিৎসায় মাথাব্যথা ভালো না হওয়া এই রোগের একটি কারণ হতে পারে।
* চাক্ষুষ ব্যাঘাতঃ
ঝাপসা দৃষ্টি, দাগ দেখা এমনকি আলোর সংবেদনশীলতা হতে পারে প্রিক্ল্যাম্পসিসার একটি লক্ষণ।
* পেটের উপর দিকে ব্যথাঃ
প্রায় সময় পেটের উপরের অংশের ডান দিকে বা পাঁজরের অধীনে ব্যথা হওয়া।
* বমি বমি ভাব বা বমি হওয়াঃ
প্রায়শই বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় পর্যায়ে হঠাৎ এমন হওয়া।
* ফোলাঃ
শরীরের কিছু কিছু অঙ্গ ফুলে যেতে পারে৷ বিশেষ করে মুখ ও হাত বেশি ফুলতে দেখা যায়।
* খিঁচুনি কার্যকলাপঃ
এক্লাম্পসিয়ার সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে খিঁচুনি হওয়া। এই খিঁচুনিগুলো সাধারণীকৃত টনিক-ক্লোনিক খিঁচুনি হতে পারে। যার মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পাশাপাশী পেশী সংকোচন বা টান ধরা অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি প্রসবের আগে বা প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনা ঘটতে পারে। যা প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ হিসেবে সতর্কবার্তা হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ
এক্লাম্পসিয়া নির্ণয়ের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নঃ
প্রাথমিকভাবে এক্লাম্পসিয়া রোগটি প্রিক্ল্যাম্পসিয়া আক্রান্ত মহিলার খিঁচুনির উপর ভিত্তি করে ক্লিনিক্যালি নির্ণয় করা হয়। এক্ষেত্রে খিঁচুনি হওয়ার অন্যান্য কারণ যেমন মৃগীরোগ, বিপাকীয় ব্যাঘাত বা সেরিব্রাল হেমারেজ ইত্যাদি কারণ বাদ দেওয়া অপরিহার্য।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষাঃ
ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলো এক্লাম্পসিয়া নির্ণয় বা চিকিৎসা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসকল পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারে-
রক্ত পরীক্ষাঃ
লিভার ফাংশন, কিডনি ফাংশন পরীক্ষাসহ রক্তে প্ল্যাটিলেটের পরিমাণ গণনার মাধ্যমে রোগটি নির্ণয় করা যেতে পারে।
প্রস্রাব বিশ্লেষণঃ
প্রোটিনুরিয়া পরীক্ষা প্রিক্ল্যাম্পসিয়া মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রোগীর প্রস্রাবের সাথে কি পরিমাণ প্রোটিন যাচ্ছে তা থেকে এক্লাম্পসিয়া বা প্রিক্ল্যাম্পসিয়া নির্ণয় করা যায়।
রক্তচাপ নির্ণয়ঃ
নারীদের বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধমে রোগটিতে আক্রান্ত কিনা সেই সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ পেতে পারে।
এক্লাম্পসিয়ার চিকিৎসাঃ
এক্লাম্পসিয়ার চিকিৎসাগুলো নিন্মরুপঃ
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনাঃ
এক্লাম্পসিয়া রোগের চিকিৎসার প্রথমিক লক্ষ্যই হচ্ছে গর্ভবতী মাকে স্থিতিশীল করা। এবং পুনরায় যেন খিঁচুনি না হয় সেই বিষয়ে প্রতিরোধ সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এই প্রাথমিক পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে-
শ্বাসনালী ব্যবস্থাপনাঃ
শ্বাসনালী পরিষ্কার আছে কিনা, শ্বাসনালীতে কোনো কিছু আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং রোগীর প্রয়োজনে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
শিরায় ঔষধ প্রবেশঃ
শিরায় ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য ক্যানোলা, বাটারফ্লাই অর্থাৎ IV এক্সেস স্থাপন করতে হবে।
মেডিকেশনঃ
এক্লাম্পসিয়ার চিকিৎসা ও রোগীর সুস্থতার জন্য বেশ কিছু ঔষধ প্রয়োগ বা সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসকল ঔষধের মধ্যে রয়েছে-
১. ম্যাগনেসিয়াম সালফেটঃ
এক্লাম্পটিক খিঁচুনি প্রপ্তিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ম্যাগনেসিয়াম সালফেট খুব ভালো একটি ঔষধ। এই ঔষধ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিষণ্ণতা দূর করতে কাজ করে। পাশাপাশি ভাসোডিলেটরি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
২. Corticosteroids:
প্রিটার্ম ডেলিভারি সম্ভাবনা দেখা দিলে এই ঔষধটি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই ঔষধটি মূলত ভ্রুণের ফুসফুসের পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৩. হাইপারটেনসিভ এজেন্টঃ
অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ল্যাবেটালল, নিফেডিপাইন, হাইড্রালজিন-এর মতো ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
এক্লাম্পসিয়ার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাই হচ্ছে খিঁচুনি রোধ এবং শিশুর প্রসব। প্রসবের সময় এক্লাম্পসিয়ার তীব্রতা এবং ভ্রুণের গর্ভকালীন বয়সের উপর নির্ভর করে। গুরুত্বর অবস্থায় মা এবং গর্ভের শিশু উভয়ের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য গর্ভকালীন বয়স বিবেচনা করে তাৎক্ষনিক প্রসবের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যবস্থাপনা পার্থক্যঃ
প্রিক্ল্যাম্পসিয়া এবং এক্লাম্পসিয়ার ব্যবস্থাপনার প্রাথমিকভাবে কিছুটা আলাদা। প্রিক্ল্যাম্পসিয়ায় মূলত খিঁচুনি হয় না। আর এক্লাম্পসিয়ায় খিঁচুনি হওয়ায় খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করাটা জরুরী বা মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে। যদিও উভয় রোগের ক্ষেত্রে এন্টিহাইপারটেনসিভ ঔষধ এমনকি নিবিড় পর্যবেক্ষণ সেবার প্রয়োজন হতে পারে। আবার এক্লাম্পসিয়ার জন্য ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের মতো এন্টিকনভালসেন্ট প্রয়োগ বা সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।
জটিলতাঃ
এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতার মধ্যে হতে পারে:
★ মাতৃত্বকালীন জটিলতাঃ
এক্লাম্পসিয়া মাতৃত্বকালীন সময়ে গুরুত্বর কিছু জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে৷।যার মধ্যে থাকতে পারে-
সেরিব্রাল হেমোরেজঃ
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে গর্ভবতী নারীর সেরিব্রাল হেমোরেজ হতে পারে।
পালমোনারি স্লোথঃ
গর্ভাবস্থায় পেটে তরল জমতে পারে।
অর্গান ফেইলিওরঃ
দেহের বিভিন্ন অঙ্গর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে লিভার এবং কিডনি ফেইলিওর হওয়ার সম্ভাবণা বেশি থাকে।
ডিয়াইসিঃ
ডিসমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোগুলেশন বা ডিআইসি হচ্ছে এক গুরুত্বর রোগ। যা রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলতে পারে।
★ ভ্রুণের জটিলতাঃ
এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও ভ্রুণ নানা ঝুঁকিতে থাকে। যেমন-
→ নির্ধারিত সময়ের পূর্বে জন্মঃ
এক্লাম্পসিয়া দেখা দিলে গর্ভবতী মায়ের জীবন বাঁচাতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সিজারের মাধ্যমে বাচ্চাকে ভূমিষ্ট করতে হয়।
→ অন্তঃসত্ত্বা বৃদ্ধি সীমাবদ্ধতাঃ
দুর্বল প্লাসেন্টাল পারফিউশনের কারণে পরবর্তীতে সন্তান গর্ভধারণে দীর্ঘ বিরতি বা সন্তান প্রসবে নিষেধাজ্ঞা দিতে হতে পারে।
→ ভ্রুণের মর্মপীড়াঃ
অবিরত রক্তক্ষরণের ফলে ভ্রুণের ক্ষতি বা ভ্রুণ মারা যেতে পারে।
প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ
বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে গর্ভবতী মা বা গর্ভের সন্তানের প্রাণ বাঁচানো যেতে পারে। এসব ব্যবস্থা হতে পারে-
১. জন্মপূর্বকালীন যত্নঃ
নিয়মিত প্রসবপূর্ব যত্ন এক্লাম্পসিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রাথমিক অবস্থায় এক্লাম্পসিয়া সনাক্তকরণ এবং প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, ইউরিন টেস্ট এবং প্রসবের আগে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য কাজ।
২. জীবনধারা পরিবর্তনঃ
স্বাস্থ্যকর জীবনধারা প্রিক্ল্যাম্পসিয়া এবং এক্লাম্পসিয়া উভয় রোগের ঝুঁকির কারণগুলো প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মধ্যে থাকতে পারে- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, রাত না জাগা, উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা, তামাক এবং এলকোহল গ্রহণ না করা, অলস জীবন-যাপন এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।
পরিশেষে,
এক্লাম্পসিয়া এমন একটি রোগ, যা গর্ভবতী মা ও গর্ভের সন্তান উভয়ের জীবন হুমকিতে ফেলতে পারে। এজন্য এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত হলে সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করার বিকল্প কিছু নাই। এই রোগ সম্পর্কে গর্ভবতী মা এবং পরিবারের সকলের জানা যতটা জরুরী ঠিক ততটাই জরুরী রোগের কারণ , লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করা। যা গর্ভবতী মা ও গর্ভের সন্তানকে জরুরী অবস্থা থেকে নিরাপদে রাখতে পারে। ধৈর্য্যের সাথে প্রসবপূর্ব যত্ন এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে এক্লাম্পসিয়ার সাথে সম্পর্কিত বা এক্লাম্পসিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে মা ও সন্তানের জীবন বাঁচানো যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব, হতে পারে সন্তানের মৃত্যু।
