গর্ভাবস্থায় হালকা বাদামী বা গন্ধযুক্ত স্রাব যেতে থাকলে চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ধরণের স্রাব সাধারণ বা স্বাভাবিক কারণে যেতে পারে। যদি গর্ভাবস্থায় কোনো নারীর স্রাব হালকা বাদামী হওয়ার পাশাপাশি দলা, গন্ধযুক্ত এবং আঠালো হয়ে থাকে, তাহলে এই স্রাব গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ বা অন্য অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
কি কি কারণে এমন স্রাব যেতে পারে তার কিছু কারণ সম্পর্কে আপনাদের অবগত করার চেষ্টা করছি।
১. ইনফেকশন (যৌনাঙ্গে সংক্রমণ):
★ ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস-
যদি স্রাব গন্ধযুক্ত ও আঠালো হয় তাহলে এই স্রাব ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজেনোসিস (Bacterial Vaginosis) এর কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
★ ইস্ট ইনফেকশন:
স্রাব যদি পনিরের মত অর্থাৎ আঠালো, গাঢ় ও জমাট বাঁধা হয় তাহলে এটিজে ইস্ট ইনফেকশন (Yeast Infection) এর লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
★ ট্রাইকোমোনিয়াসিস:
যৌনবাহিত একটি রোগ হচ্ছে ট্রাইকোমোনিয়াসিস। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে স্রাব বাদামী, আঠালো বা দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে।
২. ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিংঃ
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে হালকা বাদামী রঙের স্রাব যেতে পারে। এটি সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। তবে যদি এটি দুর্গন্ধযুক্ত, আঠালো বা বেশি পরিমাণে যায় বা বেশিদিন যায় তাহলে চিন্তার কারণ হতে পারে।
৩. সার্ভিকাল ইরিটেশন বা পলিপসঃ
সার্ভিক্স নরম হয়ে গেলে বা সংবেদনশীল হয়ে গেলে স্রাবের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তা বেশিদিন ধরে চলতে থাকলে অন্য কিছু ইঙ্গিত করতে পারে।
৪. গর্ভাবস্থায় হরমোন পরিবর্তন
হরমোন পরিবর্তন বা হরমোন ওঠানামা করার কারণে হালকা রঙের স্রাব যেতে পারে। তবে রঙ যদি গাঢ় হয়ে থাকে তবে অন্য কারণে এমন স্রাব যেতে পারে।
৫. মিসক্যারেজের লক্ষণঃ
যদি স্রবের সাথে রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা বা ক্রম্প অর্থাৎ পেটের পেশী টান ধরে থাকে, তাহলে এই কারণগুলো মিসক্যারেজের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন কিছু দেখা যায় দ্রুত চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে হবে।

করণীয় কীঃ
যদি কোনো নারীর এমন স্রাব দেখা যায় তাহলে অতি দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-
১. ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
যদি গর্ভাবস্থায় এমন স্রাব দেখা যায় তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন গাইনী বিশেষজ্ঞর স্মরণাপন্ন হতে হবে। সংক্রমণ, মিসক্যারেজ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে চিকিৎসা প্রদান করবেন।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিনঃ
এমনটা দেখা দিলে কোনো প্রকার ভারী কাজ বা শরীরে চাপ পড়ে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে৷ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুনঃ
এসময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকাটা খুব জরুরী৷ অন্তর্বাস শুকনো ও পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গরম পানি দিয়ে অন্তর্বাস ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শরীর ও যৌনাঙ্গ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
কখন জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজনঃ
হালকা বাদামী স্রাব আসলেই যে উদ্বিগ্ন হতে হবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হালকা বাদামী স্রাব আসতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটা জরুরী। আর সেই ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে-
♦ যদি স্রাবের সাথে রক্তপাত হয়,
♦ যদি পেটে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভব হয়।
♦ যদি ব্যথার সাথে জ্বর, দুর্বলতা বা অন্যান্য অস্বাভাবিকতা অনুভব করে।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিলম্ব বা অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। তা না হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গর্ভের সন্তার মারা যাওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল হতে পারে।
