সায়ানোসিস হচ্ছে রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি। রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকলে সায়ানোসিস হয়। মূলত হিমোগ্লোবিন, লোহিত রক্ত কণিকার অনু রক্তে অক্সিজেন বহন করে। যখন এই হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্ত কনিকা অক্সিজেনের সাথে আবদ্ধ হতে পারে না, তখন তা নীল হয়ে যায়। যার ফলে ত্বক, শ্লেষ্মা ঝিল্লির বৈশিষ্টগত রঙ পরিবর্তন হয়ে যায়। আর এই অবস্থাটিকেই বলা হয় সায়ানোসিস।
সায়ানোসিসের ধরনঃ
সায়ানোসিসকে প্রধান দুই প্রকারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এই একটি হচ্ছে কেন্দ্রীয় সায়ানোসিস এবং অপরটি পেরিফেরাল সায়ানোসিস।
কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসঃ
যদি হার্ট এবং ফুসফুসে প্যাথলজির কারণে রক্ত খুব কম অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাহলে তা কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের দিকে পরিচালিত করে। এর কারণে শরীরের কেন্দ্রীয় অংশ যেমন, ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখের উপর প্রভাব ফেলে। কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের ব্যাধি, নিউমোনিয়া, জন্মগত হৃদপিন্ডের সমস্যা বা পালমোনারি এমবোলিজনের মতো গ্যাসের বিনিময়কে বাঁধা দেয় এমন কিছু কারণ থাকতে পারে।
কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের চিহ্ন:
ঠোঁট, জিহ্বা এবং শ্নৈষ্মিক ঝিল্লি নীল বর্ণ ধারণ করা।
কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের কারণঃ
সেন্ট্রাল সায়ানোসিস পুরো শরীরে রক্ত প্রবাহে কম অক্সিজেনের মাত্রার সাথে সম্পর্কিত। কেন্দ্রীয় সায়ানোসিস প্রায়শই ঠোঁট, জিহ্বা, মুখ বা শরীরের কেন্দ্রীয় অংশে প্রকাশ পায়। কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
★ জন্মগত হার্টের ত্রুটি,
★ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ,
★ গুরুত্বর হাঁপানি,
★ নিউমোনিয়া বা পালমোনারি শোথ ইত্যাদি
পেরিফেয়াল সায়ানোসিসঃ
পেরিফেয়াল সায়ানোসিসে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সঞ্চালন দুর্বল এবং হাত, পা এবং নখে কম অক্সিজেন সঞ্চালিত হয়। এই ধরনের সায়ানোসিসে সাধারণত রক্তের প্রবাহে অক্সিজেন ছড়িয়ে পড়ার সমস্যাগুলোর বিপরীতে স্থানীয় রক্ত সঞ্চালন সমস্যাসমূহ অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সায়ানোসিসের মতো দিক নির্দেশ করে।
এই প্রধান দুইটি সায়ানোসিস ছাড়াও আরও কিছু সায়ানোসিস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
নবজাতক সায়ানোসিসঃ
নবজাতকের সায়ানোসিস মূলত নবজাতকের ত্বকের নীলাভ বিবর্ণতা দেখে চিহ্নিত করা হয়। এই ধরনের সায়ানোসিস শরীরবৃত্তীয় হতে পারে। অর্থাৎ জন্মগ্রহণের প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যে নবজাতকের শরীরে দেখা যেতে পারে। অথবা জন্মগত হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের কারণে প্রকাশ পেতে পারে।
নবজাতক সায়ানোসিসের চিহ্নঃ
নবজাতকের ঠোঁট, মুখ বা মুখের চারপাশে নীলাভ আভা দেখা দেওয়া।
কারণসমূহঃ হার্টে ছিদ্র বা অন্যান্য ত্রুটি, শ্বাসকষ্ট।
সার্কিউমোরাল/পেরিওরাল সায়ানোসিসঃ
সার্কিউমোরাল সায়ানোসিস হচ্ছে মুখ ও ঠোঁটের চারপাশে স্থায়ী নীলাভ বিবর্ণতা। এই ধরনের সায়ানোসিসে সাধারাণত রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস বা শ্বাসকষ্ট নির্দেশ করে। তবে ঠান্ডা পরিবেশে সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে সাময়িকভাবে এই ধরনের সায়ানোসিস সাময়িকভাবে দেখা দিতে পারে।
সার্কিউমোরাল সায়ানোসিসের চিহ্নঃ
মুখের চারপাশে নীলাভ বিবর্ণতা প্রকাশ পায়।
কারণসমূহঃ শ্বাসযন্ত্রের অবস্থা, ঠান্ডা এক্সপোজার বা অক্সিজেন স্যাচুরেশন হ্রাস পাওয়া এই ধরণের সায়ানোসিসের কারণ।
সায়ানোসিস কোথায় দেখা দিতে পারেঃ
অক্সিজেন স্বল্পতার তীব্রতা এবং অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে সায়ানোসিস দেখা দিতে পারে। সাধারণত যে সকল স্থানে সায়ানোসিস দেখা দিয়ে থাকে তা হলো-
★ নখের সায়ানোসিসঃ
রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে নখের সায়ানোসিস দেখা যায়। এক্ষেত্রে দুর্বল সঞ্চালন বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে আঙুলের ডগাগুলো নীলাভ বা বেগুনি বর্ণ ধারণ করতে পারে।

ঠোঁটে সায়ানোসিসঃ
ঠোঁট হচ্ছে প্রথম ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে একটি যেখানে সায়ানোসিস প্রদর্শিত হয়। কারণ ঠোঁটে অনেকগুলো রক্তনালী রয়েছে৷ যদি কারো ঠোঁট নীলাভ বর্ণ ধারণ করে, তাহলে বুঝে নিতে হবে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে তার শরীরে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালন হচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যক্তিটি সায়ানোসিসে আক্রান্ত।
মুখে সায়ানোসিসঃ
মুখে ফুসকুড়ি এবং সেইসাথে মুখ এবং চোখের চারপাশে নীল বর্ণ রক্তে কম অক্সিজেনের মাত্রা ইন্ডিকেট করে। যখন সায়ানোসিস গুরুত্বর পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন এই ধরণের লক্ষণ মানুষের মাঝে লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থা হলে বুঝে নিতে হবে, শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাওয়ার জন্য যা যা করতে পারে তার সর্বোচ্চটা চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎকের স্মরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।
জিহ্বায় সায়ানোসিসঃ
জিহ্বায় বিশেষ করে জিহ্বার ডগায় নীলাভ বর্ণ সায়ানোসিসের গুরুত্বর একটি লক্ষণ। এমনটা দেখলে বুঝে নিতে হবে টিস্যুগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। এই লক্ষণটি গুরুত্বর পর্যায়ের সমস্যা নির্দেশ করে। এমনটা হলে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। এই অবস্থার কারণে শ্বাসকষ্ট বা রক্ত চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
শিশুদের সায়ানোসিসঃ
শিশুদের ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখ নীলাভ বর্ণ ধারণ করলে অক্সিজেনের মাত্রা কম এমনটা নির্দেশ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মগত হার্টের ত্রুটি, শ্বাসকষ্ট এবং সংক্রমণের কারণে সায়ানোসিস হতে পারে। কোনো শিশুর মাঝে সায়ানোসিসের লক্ষণ দেখা দিলে অতি দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
এআরডি সিন্ড্রোমঃ
ARDS হচ্ছে সায়ানোসিসের গুরুত্বর একটি পর্যায়, যা ফুসফুসে ব্যাপক প্রদাহের দ্রুত সূচনা দ্বারা নির্ণয় করা যায়। এই অবস্থার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। যা গুরুত্বর হাইপোক্সিয়া এবং সায়ানোসিসের দিকে ধাবিত করে।
হেমাটোলিজিক কারণঃ
মেথেমোগ্লোবাইনিমিয়াঃ
মেথেমোগ্লোবাইনিমিয়া এমন একটি রোগ যার কারণে হিমোগ্লোবিন মেথেমোগ্লোবিনে জারিত হয়। যার প্রভাবে রক্ত কার্যকরভাবে অক্সিজেন বহন বা সরবরাহ করতে পারে না। এই রোগের প্রভাবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রোগীকে সায়ানোসিসের দিকে ধাবিত করতে পারে।
অন্যান্য কারণঃ
১. হাইপোথার্মিয়াঃ
হাইপোথার্মিয়ার কারণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। প্রচন্ড ঠান্ডার সংস্পর্শে ভাসোকনস্ট্রিকশনের কারণে পেরিফেয়াল সায়ানোসিস হতে পারে।
পেরিফেয়াল সায়ানোসিসের কারণঃ
পেরিফেয়াল সায়ানোসিস হয় রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে। যখন রক্তে অক্সিজেন অকার্যকরভাবে পরিচালিত হয় তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে (হাতের ও পায়ের আঙুল) প্রায়শই খারাপ সঞ্চালন দেখা যায়। এছাড়াও সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
★ কোল্ড এক্সপোজার
★ হার্ট ফেইলিয়র,
★ হার্টের অস্বাভাবিক স্পন্দন,
★ অভিঘাত,
★ রায়ানাউদ রোগ ইত্যাদি।
প্রাপ্তবয়স্কদের সায়ানোসিসের কারণঃ
প্রাপ্তবয়স্কদের সায়ানোসিস হওয়ার পিছনে কার্ডিওভাস্কুলার বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে হতে পারে। এই মধ্যে রোগী হার্ট ফেইলিওর, তীব্র হাঁপানি, পালমোনারি এমবোলিজম বা নিউমোনিয়ার মত রোগ থাকতে পারে। এই সকল রোগ অক্সিজেনকে প্রভাবিত করে। যার কারণে সৃষ্টি হতে পারে সায়ানোসিস।
সায়ানোসিসের লক্ষণঃ
সায়োনোসিস নিজেই অন্তর্নিহিত রোগের একটি উপসর্গ। তবে এই রোগটি মূলত অন্য রোগের বা অন্য কোনো কারণের উপর নির্ভর করে লক্ষণ ও উপসর্গগুলো প্রকাশ পেয়ে থাকে।
সাধারণ লক্ষণঃ
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. ত্বক এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লির নীলাভ বিবর্ণতা,
২. শ্বাসকষ্ট,
৩. দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং
৪. অবসাদ।
নির্দিষ্ট লক্ষণঃ
নির্দিষ্ট লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. শিশুদের মধ্যে: খারাপ খাওয়ানো বা খেতে না পারা, অলসতা, বিরক্তি ইত্যাদি
২. প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে: হার্টের বা কার্ডিয়াক সমস্যা, বুক ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, ধড়ফড় করা ইত্যাদি।
সায়ানোসিস নির্ণয়ঃ
সায়ানোসিস রোগটি নির্ণয়ের জন্য অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা ও ব্যাপক মূল্যায়ন জড়িত। এসবের মধ্যে রয়েছে-
ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাঃ
পুঙ্খানুপুঙ্খ কিছু শারীরিক পরীক্ষা সায়ানোসিসের ধরণ এবং কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল সায়ানোসিসের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক সমস্যার কিছু ধারণা পাওয়া যায়। আর যদি পেরিফিয়াল সায়ানোসিস হয়ে থাকে, তাহলে এই ধরণের সায়ানোসিসের মূল সমস্যাগুলো নির্ণয় করা যায়।
ল্যাব টেস্টঃ
ল্যাব টেস্টের মধ্যে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। এসব হচ্ছে*
CBC বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টঃ
CBC টেস্টের মাধ্যমে এনিমিয়া বা মেথেমোগ্লোবিনেমিয়ার মতো সায়ানোসিসের হেমাটোলজিক কারণগুলো শনাক্ত করা যায়।
ইমেজিং স্টাডিজঃ
বুকের X-ray: বুকের এক্স-রে এর মাধ্যমে হার্ট এবং ফুসফুসের গঠনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে কিনা সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
সিটি স্ক্যানঃ
যদি এক্স-রে তে স্পষ্ট কিছু বুঝা না যায়, সেক্ষেত্রে ডাক্তার সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে বুকের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারে।
ইকোকার্ডিওগ্রামঃ
ইকোকার্ডিওগ্রাম হার্টের বিশদ চিত্র প্রদান করে। এই টেস্ট সকল কার্ডিয়াক সমস্যা, এমনকি জন্মগত হার্টের ত্রুটি শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
উন্নত ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা:
উপরোক্ত পরীক্ষাগুলো ছাড়াও উন্নতমানের আরও কিছু পরীক্ষা রয়েছে, যার মাধ্যমে রোগটি নির্ণয় করা সহজতর হয়। পরীক্ষাগুলো হচ্ছে-
★ কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন:
কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন পদ্ধতির মাধ্যমে হার্টের গঠন এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এমনকি জন্মগত জটিল হৃদরোগ নির্ণয় করতে সহায়তা করে এই পরীক্ষাটি।
সিটি পালমোনারি এনজিওগ্রাফিঃ
এই পরীক্ষাটি এমবোলিজম নির্ণয়ের সহায়তা করে৷ এমবোলিজম সায়ানোসিসের একটি সম্ভাব্য কারণ বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।
চিকিৎসাঃ
সায়ানোসিসের চিকিৎসা মূলত অন্তর্নিহিত কারণের সমাধান করা। অন্তর্নিহিত কারণ এবং চিকিৎসার জন্য মেডিসিন, থেরাপি, সহায়ক অন্যান্য চিকিৎসা এমনকি সার্জারীর মত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিভিন্ন চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে।
★ অক্সিজেন থেরাপিঃ
অক্সিজেন থেরাপি হচ্ছে সায়ানোসিস আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনেশন উন্নত বা স্বাভাবিক করার জন্য সর্বপ্রথম চিকিৎসা। রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য মুখের মাক্স, অনুনাসিক ক্যানোলা এমনকি গুরুত্বর ক্ষেত্রে আইসোলেশন, ভ্যান্টিলেশনের বা লাইফ সাপোর্টের মত যান্ত্রিক অক্সিজেন প্রয়োগ করতে হতে পারে।
★ মেডিকেশনঃ
অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে চিকিৎসককে ভাসোডিলেটর, ব্রঙ্কোডাইলেটর এবং মূত্রবর্ধকের মত ঔষধ সেবনের নির্দেশনা প্রয়োগ করতে হতে পারে। যখন মূত্রবর্ধক হৃদযন্ত্রের ফেইলিওরের মত ঘটনা ঘটায় তখন ব্রঙ্কোডাইলেটর সিওপিডিতে সাহায্য করতে সক্ষম।
★ সার্জারীঃ
কিছুক্ষেত্রে রোগীকে সুস্থ করার জন্য সার্জারী করার বিকল্প কিছু থাকে না। এই সকল ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে।
জন্মগত হার্টের ত্রুটিঃ
জন্মগত হার্টের ত্রুটি যা সায়ানোসিস সৃষ্টি করে থাকে, সেই সকল সমস্যার সমাধান করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্ত্রপাচার করতে হয়। জন্মগত হার্টে ফুটো থাকা, হার্টে ব্লক থাকা ইত্যাদি এই ত্রুটির অন্তর্গত। ধমনী সুইচ অপারেশন বা টেট্রালজি অব ফ্যানটের মেরামতের মতো পদ্ধতিসমূহ উল্লেখযোগ্যহারে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে।
ফুসফুস প্রতিস্থাপনঃ
ফুসফুসের গুরুত্বর কিছু রোগ যেমন- ফুসফুস ক্যান্সার, ফুসফুসের টিউমার, অতিরিক্ত ইনফেকশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের মত সার্জারীর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
সহায়ক যত্নঃ
উপরোক্ত চিকিৎসার পাশাপাশি আরো কিছু কাজ করতে হবে। যা রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ। আর সেগুলো হচ্ছে-
মনিটরিং এবং ফলো-আপ:
সায়ানোসিস আক্রান্ত রোগীর জন্য ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত ফলো-আপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং সায়ানোসিস সৃষ্টি করে এমন সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা যায়। যার কারণে রোগীর সর্বোত্তম সুচিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়।
জীবনধারা পরিবর্তনঃ
সায়ানোসিস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে জীবনধারায় পরিবর্তন আনাটা খুবই জরুরী। পরিবর্তনের মধ্যে ধুমপান ত্যাগ করা, সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার এবং শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করা, ওজন কন্ট্রোলে রাখা, রাত না জাগা, নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এসকল অভ্যাস সায়ানোসিসের ঝুঁকি কমিয়ে দিয়ে থাকে।
শিশুদের সায়ানোসিসে করণীয়ঃ
শিশুদের মধ্যে সায়ানোসিস দেখা দিলে বিলম্ব না করে সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। কারণ শিশুদের প্রধানত জন্মগত হার্টের সমস্যা অথবা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে সায়ানোসিস হয়ে থাকে। এই সমস্যা থেকে শিশুর স্বাস্থের উন্নতির জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের সায়ানোসিসের কারণঃ
শিশুদের সায়ানোসিসের কারণের মধ্যে রয়েছে-
★ জন্মগত হার্টের ত্রুটিসমূহ,
★ শ্বাসযন্ত্রের কষ্ট সিন্ড্রোম,
★ PPHN বা নবজাতকের ক্রমাগত পালমোনারি হাইপারটেনশন।
শিশুদের চিকিৎসা কৌশলঃ
শিশুদের সায়ানোসিস দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করতে হয়৷ এই চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে-
★ তাৎক্ষনিক অক্সিজেন থেরাপি,
★ জন্মগত হার্টের ত্রুটি থাকলে অস্ত্রপাচার,
★ পালমোনারি হাইপারটেনশনের আক্রান্ত শিশুর জন্য ঔষধ প্রদান।
